মদিনা সনদকে পাঠ্যভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটির সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা। তাঁরা বলেন, অতীতে মদিনা সনদকে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সবাই মদিনা সনদের কথা বললেও এটি কী, তা অধিকাংশ মানুষ জানেন না। কোথাও এটি পড়ানো হয় না, এমনকি আলাদাভাবে কেনারও সুযোগ নেই। ফলে এ বিষয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মদিনা সনদকে পাঠ্যভুক্ত করা প্রয়োজন।



বক্তারা বলেন, সমাজ এখন নানা দলীয় ও ধর্মীয় গোষ্ঠীতে বিভক্ত। এতে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সামাজিক ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ মদিনা সনদে রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সরকার, আলেম সমাজ ও রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।


মদিনা দিবস পালন উপলক্ষে শনিবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড মুসলিম কালচারাল সোসাইটি আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটাস ড. আনিসুজ্জামান। ‘মদিনা সনদের আলোকে সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আহমদ সেলিম রেজা।


বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ও ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার ও সাংবাদিক আবু সালেহ, বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, দারুল ইহছান ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহযোগী অধ্যাপক শাইখ উছমান গণি এবং ভাষানী ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।



সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর এমিরেটাস ড. আনিসুজ্জামান বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রণীত মদিনা সনদ সমাজে সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে ন্যায্যতার ঘাটতি রয়েছে। গণতন্ত্র বলতে আমরা শুধু ভোট দেওয়াকে বুঝি। অথচ ভোট গণতন্ত্রের একটি দিক। এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাম্য ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের এই চর্চা অনুপস্থিত। এখানে ভোট হয়, সরকার গঠিত হয়, কিন্তু সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না।



তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে সরকার ও রাজনীতিবিদদের আপসকামিতা দেশে সাম্য প্রতিষ্ঠার অন্যতম অন্তরায়। সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।



মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, নৈতিকতা ছাড়া সমাজে ন্যায্যতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। ইশতেহার ঘোষণা কিংবা বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তাঁর সাবেক একান্ত সচিব ফজলে এলাহী আকবর।